পঞ্চগড়ে তেতুলিয়ায় গাছেই পচেছে জাতীয় ফল কাঠাল
পঞ্চগড় থেকে খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ে কাঁঠাল চাষ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানকার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ১,২০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়ে থাকে, যার গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪,৫০০ টন। জেলার মাটি ও আবহাওয়া কাঁঠাল চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
পঞ্চগড়ে জেলাশহর অধিকাংশ বাড়ির উঠনে ও বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গায় এবং মাঠে অন্যান্য ফলদ গাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় জাতীয় ফল কাঁঠাল । প্রতি বছর গাছ ভর্তি কাঁঠাল হলেও খুব বেশি আয় করতে পারছেন না গাছ মালিকেরা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গাছেই পচছে কাঁঠাল। এছাড়া গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও গাছে ব্যাপক কাঁঠাল ধরেছে। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি-কালবৈশাখী আম ও লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের ওপর আঘাত হানলেও কাঁঠালের কোন ক্ষতি হয়নি। গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে কাঁঠাল।
পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান বলেন অফিসের কাঠাল বিক্রি চেষ্টা করেছি। কিনতে আসেনি কেউ
মানুষকে ফ্রি দিলেও নিতে চায় না।
জেলার তেতুলিয়া উপজেলায় রণচণ্ডী
গ্রামের আকবর আলী বলেন, ‘আমার বাড়িতে ১০টি বড় কাঁঠাল গাছ আছে। প্রতিবছর অনেক কাঁঠাল ধরে। এবারেও গাছ ভর্তি কাঁঠাল এসেছে। পাকতে শুরু করেছে পাইকাররা কাঁঠাল কিনতে আসে না। ন্যায্য দাম নেই। হাট বাজারে
কাঁঠাল প্রতি দাম বলে ৫-১০ টাকা। এবার আরও বেশি ফলন হয়েছে কাঁঠালের। এজন্য আরও কম বলবে দাম। তাই কাঁঠাল বিক্রির থেকে গবাদি পশুকে খাওয়ানো উত্তম মনে করি।
তেতুলিয়া উপজেলা তিরনই হাট ইউনিয়নে এলাকার গৃহিনী সুফিয়া বেগম বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে যেসব জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে, তা থেকে সারাবছর ছাগলকে পাতা খাওয়ানো হয়। এজন্য গাছগুলো রাখা হয়েছে।’
ন্যায্য দাম পান না দাবি করে তিনি বলেন, ‘কাঁঠাল বিক্রির আশা করি না। কাঁঠাল ছাগল-গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করি। আর কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে কয়েকমাস তরকারি হিসেবে খাওয়ার জন্য রাখি।
তেতুলিয়া উপজেলা বাবুরাম জোত গ্রামের নুর হোসেন বলেন, ‘কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল। অথচ এই ফলের কোন কদর নেই।’
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, জেলার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কাঁঠালে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য এই অঞ্চলে কোন প্রতিষ্ঠান হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ অনেক গাছ মালিক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। কাঁঠালের ন্যায্য দাম পাবে গাছ মালিকেরা৷ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হবে কাঁঠালের।
তবে পঞ্চগড় কী পরিমাণ কাঁঠাল গাছ আছে তার কোন হিসাব নেই জেলা বন বিভাগের কাছে। জেলা বন কর্মকর্তা বলেন, ‘যেগুলো গাছ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে রয়েছে, আমাদের কাছে সেগুলোর হিসাব নেই।’
পঞ্চগড় কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোন পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেই। তবে পঞ্চগড়, দিনাজপুরের কাঁঠাল সংরক্ষণবিষয়ক গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্র৷ তারা কাঁঠাল দিয়ে কয়েকটি পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা করছে। যেন কাঁঠালের উৎপাদিত পণ্য সারাবছর পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাঁঠালের চিপস, কাঁঠাল সত্ত্ব, কাঁঠালের আঁচার উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, পঞ্চগড় প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে একটি কাঁঠাল সংরক্ষণ কেন্দ্র হলে অনেক কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এ জাতীয় আরো খবর..