চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে তরুণ-তরুণীর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও অন্তঃসত্ত্বা। আট মাস পরে বেসরকারি হাসপাতালে তরুণীর সন্তান প্রসব। পিতৃ পরিচয় আড়াল করতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রির পর থানা ও ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে সোমবার ভোরে বিক্রিত নবজাতক উদ্ধার। এ ঘটনায় থানায় পৃথক ২টি মামলার পর ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে অভিযুক্ত যুবকের মা, জেঠা পাশাপাশি নবজাতক বিক্রির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতালের এক নার্স ও নবজাতককে কিনে নেওয়ার অভিযোগে আরও একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ও পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত যুবক আবির হোসেন কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন প্রকাশ লাকির ছেলে। তাকে গ্রেফতার করতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। তথ্যটি সোমবার রাতে নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: অভিযুক্ত যুবক আবির হোসেনের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালের অভিযুক্ত নার্স স্বপ্না বেগম ও নবজাতককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে নেওয়া উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রিপন মিয়া। পুলিশি অভিযান ও নবজাতক উদ্ধারের খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আবির হোসেন একই বাড়ির এক তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আট মাস গর্ভ ধারণের পর গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ওই তরুণী চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ প্রাইম হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। জন্মের পর পরই অভিযুক্ত আবির ও তার পরিবারের সহযোগীতায় নবজাতকটিকে উপজেলা কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রিপন (৩৮) এর কাছে ৫০ হাজার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবকের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, নবজাতক বিক্রির সহয়তাকারী নার্স স্বপ্না বেগম ও ক্রেতা রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার সন্ধায় বাদী হয়ে অভিযুক্ত যুবক আবির হোসেন, তার মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, স্থানীয় প্রভাবশালী শালিসদার হাজী মোস্তফা মোল্লাকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।
মামলায় তরুণী উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আবির হোসেন তার পাশ^বর্তী বাড়ির। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার মা নানীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে ওই রাতে সে তাদের ঘরে প্রবেশ করে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে একই আশ^াসে একাধিকবার শারীরিক সর্ম্পক হয়। যারফলে সে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি অভিযুক্ত আবিরের পরিবারকে জানালে তার পরিবার ও প্রভাবশালী শালিসদাররা নানান টালবাহানা করে। এরই মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর সে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ প্রাইম হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।
মামলায় ওই তরুণী আরো উল্লেখ করেন, সন্তানের পিতৃত্ব আড়াল করার জন্য আবির তার মা এবং প্রভাবশালী শালিসদার ও প্রাইম হাসপাতালের স্টাফ এবং তাদের পরিচিত লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে নবজাতক সন্তানকে পাচার করার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগীতায় তার নবজাতককে উদ্ধার করে তার হেফাজতে দেয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, নবজাতককে বিক্রি করার ঘটনায় মানবপাচার মামলায় থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুর রহমান টুকু বাদি হয়ে অভিযুক্ত আবিরকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেনসহ অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক আগামীর বাংলা