রিপোর্টার সমরেশ রায় ও শম্পা দাস,কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ :
২৫ শে অক্টোবর রবিবার, সপ্তমী রাতে যে মন পুজো মণ্ডব ঘিরে এতগুলি মানুষের প্রাণ গিয়েছে, অনেকেই আহত হয়েছেন, সেই চোর বাগানের প্রতিমাকে বিদায় জানালো কড়া পুলিশি পাহারায় ২৪ শে অক্টোবর শনিবার, দুর্গা মাকে বিদায় জানাতে অনেকের বুক ফেটে গিয়েছে, আর বিদায় বেলায় মায়ের সিঁদুর পড়া হলো না নেই কোন সিঁদুর খেলা। কোনরকমে একজনের এক টুকরো মিষ্টি মায়ের মুখে দিয়েই বিদায় নিতে হয়।, এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।
মহামান্য আদালতের নির্দেশ মেনে, প্যান্ডেল না খুলে,কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে, মাকে নিরঞ্জনের পথে নিয়ে গেলেন কুমারটুলির ছত্রিশ জন বাহক। এবং জাতে মায়ের কোন রকম ক্ষতি না হয়, তাহার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করেছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। এই প্রতিমার নিরঞ্জন দেখতে শয়ে শয়ে মানুষ ভীড় জমিয়েছে, কারো চোখে অশ্রু সজল জল, কারো মনে বুকফাটা ব্যথা সব কিছুকেই নিয়েই মায়ের বিদায়, আর চোরবাগান চিরদিনের জন্য কালো দিন হিসাবে স্মরণীয় রইল।
অন্যদিকে চোখে পড়ল কলকাতার বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ ও মোমবাতি মিছিল। মা বেরোনোর সাথে সাথে যে 19 জন প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি মিছিল বের হয়। এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও নেওয়া হয়েছে।,
মাকে দেখার জন্য রাস্তার দু'ধারে প্রচুর মানুষের সমাগম, তারা মায়ের একটি ফটো সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন, সবাই একটি কথাই জানালেন, মায়ের কাছে প্রার্থনা করলেন, যারা দোষী তাদের শাস্তি দিও, দুষ্টের দমন কর, আর যেন কোথাও পুজোর আনন্দ এইভাবে নষ্ট না হয়ে যায়, সকলকে মঙ্গল করো, এবং যখম হয়েছেন, তাদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে দাও।
এরপর আস্তে আস্তে মাকে নিমতলা ঘাটের দিকে ধীরগতিতে নিয়ে যেতে থাকেন বাহকেরা। ১৯ জনের প্রাণ চোরবাগান ক্লাবকে চিরদিনের জন্য কালো রাতে পরিণত করলো।
দৈনিক আগামীর বাংলা