স্টাফ রিপোর্টার :যশোরে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৪০০ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এলাকার চিহ্নিত ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জলিল এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পালবাড়ি, পাগলাদহ, নওদা গ্রাম ও বোলপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
নিরাপদ যশোর গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-এর সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পালবাড়ি, পাগলাদহ, নওদা গ্রাম ও বোলপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জলিলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ জলিল ও তার তিন সহযোগীকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদক কারবারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কোথা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করা হতো—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। মাদককে কেন্দ্র করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
পুলিশের এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-এর নেতৃত্বে যশোরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় নিয়মিত অভিযান, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়; মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এলাকার কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা বা মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার তথ্য পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশ এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নিরাপদ ও সুন্দর যশোর গড়ার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ জলিল ও তার তিন সহযোগী গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় অপরাধ কমবে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, মাদকমুক্ত যশোর গড়তে চলমান অভিযান কোনোভাবেই থামবে না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিরাপদ যশোর গড়তে পুলিশ, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দৈনিক আগামীর বাংলা