প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
বৈধ বিবাহকে ‘ধর্ষণ মামলা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বৈধ বিবাহকে ‘ধর্ষণ মামলা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বৈধ বিবাহকে ‘ধর্ষণ মামলা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের এক সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে মানিক ওরফে নাহিদের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার (২১ জুন) দুপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর (নিজবাড়ীতে) এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মানিক ওরফে নাহিদের ছোট ভাই নুরনবী ইসলাম। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একটি সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে মানিক ওরফে নাহিদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপ প্রচারণা চালানো হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক ছিলেন নাহিদের শ্বশুর ফিরোজ শেখের সৎভাই সুমন শেখ। অথচ এ বিষয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, তার বড় ভাই মানিক ওরফে নাহিদের সঙ্গে ফারজু আক্তার রিতুর বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রিতুর বাবা ফিরোজ শেখের বর্তমান স্ত্রী দোলনা শেখের সঙ্গে আলোচনা ও পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিরোজ শেখের আত্মীয় সাইফুল খান। তাদের দাবি, গত ২১ মে ২০২৬ ইং তারিখে কাজীর মাধ্যমে নাহিদ ও রিতুর বিবাহ সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ফিরোজ শেখের একাধিক স্ত্রী রয়েছেন। প্রথম স্ত্রী বর্তমানে ময়মনসিংহের ভালুকায়, দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা গাজীপুরে এবং তৃতীয় স্ত্রী দোলনা শেখ ঢাকার উত্তরা এলাকায় বসবাস করেন। পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করেই পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
তাদের দাবি, মামলার এজাহারসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে রিতুর সঙ্গে নাহিদের পূর্বপরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
নুরনবী ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ শেখের সৎভাই সুমন শেখ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে মানিক ওরফে নাহিদ ও তার পরিবারের সম্মানহানি করা হয়েছে। তিনি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জামালপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রত্যাহার না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাহিদের বাবা দুদু মিয়া, মা নার্গিস বেগম, প্রতিবেশী আল আমিন, সাদেক খোবায়েত ও জরিনা। এ সময় তারা বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আগামীর বাংলা