স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ বোতল এসকাফ ফেন্সিডিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল বদলগাছী থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বদলগাছী উপজেলার পিন্ডিরা গ্রামের সিয়ামের ভাই-বোন ট্রেডার্স নামের একটি টিনের দোকানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে দোকানে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাদের নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হলেন—পিন্ডিরা গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে আব্দুল মালেক মিল্টন (৪০) এবং জগন্নাথপুর গ্রামের নুরুল সর্দারের ছেলে আল আমিন (৩৩)।
পরে আল আমিনের হেফাজত তল্লাশি করে দুই বোতল এসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন পুলিশকে জানায়, উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যগুলো দোকানের মালিক আব্দুল মালেক মিল্টনের। তার আরও মাদক শরিফুলের দোকানে রাখা আছে বলেও জানায় সে।
এরপর গোয়েন্দা পুলিশের দল বদলগাছী উপজেলার জিয়ল গ্রামের কসিমুদ্দিনের ছেলে শরিফুলের (৩৮) ফ্লেক্সিলোডের দোকানে অভিযান চালায়। দোকান তল্লাশি করে একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে আরও তিন বোতল এসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল জানায়, উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিলগুলো আব্দুল মালেক মিল্টনের। তিনি তার কাছে মাদকগুলো রেখে যেতেন। কোনো ক্রেতা এলে শরিফুল সেগুলো বিক্রি করে টাকা আব্দুল মালেকের কাছে দিয়ে দিতেন। শরিফুল আরও জানায়, আব্দুল মালেকের বাড়িতেও মাদকদ্রব্য রাখা আছে।
পরে গোয়েন্দা পুলিশের দল আব্দুল মালেক মিল্টনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পেছনে একটি গর্তের ভেতর রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে। সেখান থেকে উপস্থিত লোকজনের সামনে আরও পাঁচ বোতল এসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
এ সময় আল আমিনের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযানে ১০ বোতল এসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আব্দুল মালেক মিল্টন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে তা বিক্রি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার সহযোগী হিসেবে আল আমিন ও শরিফুল মাদক সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক আগামীর বাংলা